স্বাধীনতার ৭৩ বছর ধরে বাঁশের নড়বড়ে সেতু দিয়ে ৫০০ পরিবারের নদী পারাপার

207

মহম্মদ নাজিম আক্তার,চাঁচল,২৮ মার্চ: স্বাধীনতার ৭৩ বছর কেটেছে তবুও গ্রামবাসী কষ্ট থেকে মুক্তি পায়নি।আবেদন-নিবেদন জোড়ালো হলেও ভ্রূক্ষেপ নেই কারোও।ভোট আসে ভোট যায় নেতা মন্ত্রী বদলেছে।একাধিক বার বদলেছে রাজ‍্যের সরকার।তবুও গ্রামবাসি এই দুর্ভোগ যন্ত্রণায় থেকেই গেছে।একুশের বিধানসভা নির্বাচনের দোড়গোড়ায় ফের অনুশোচনা করছেন ৫০০ পরিবারের গোটা গ্রামবাসী।মূলত মালদহের ৪৭-মালতিপুর বিধানসভার চন্দ্রপাড়া অঞ্চলের ৫০০ পরিবারের হোসেনপুর গ্রামটি দুই নদী মহানন্দা ও সুই নদীর মধ‍্যবর্তীতে ভৌগোলিকভাবে অবস্থান করেছে।

কেলাইগাছি-হোসেনপুর ঘাটে গ্রামবাসী নিজ উদ‍্যোগেই বাঁশের সাঁকো তৈরী করছে স্বাধীনতা থেকে আজ অব্দি।গ্রাম পঞ্চায়েত,স্কুল-কলেজ,ব্লক অফিস,হাট-বাজার,হাসপাতাল সহ জীবিকা নির্বাহের জন‍্য সর্বত্রই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই ভরসা।সাঁকোটিত একসাথে একজনের বেশি পারাপার করা যাবে না বলে হোসেনপুর বাসি জানাচ্ছেন।খড়াকালে এখন বাঁশের সাঁকোতে পারাপার চলছে।মহানন্দার জল বাড়লেই নৌকা করে চলে যাতায়াত।তবে খড়া হোক বা বর্ষা গোটা বছরই আতঙ্কের মধ‍্যেই পারাপার হয় গ্রামবাসি।পড়ুয়ারা স্কুল ও টিউশনি যাওয়ার জন‍্য পার হওয়ার সময় নদীতেও পড়েছে বইখাতা।হোসেনপুর গ্রামের এক ব‍্যক্তি আইনল হোক জানালেন,গ্রামের রোগী বা প্রসূতি মায়েদের হাসপাতাল নিয়ে যেতে চরম কষ্ট হয়।

খড়ার সময় বাঁশের খাটিয়ায় রোগীকে বসিয়ে চার কাঁধে নেয় এবং ওই ভাবেই বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পার করাতে হয় রোগীকে।তিনি বলেন,প্রায় চার পুরুষ বাঁশের সাঁকো দিয়েই পারাপার করেছেন।আমরাও পাকা সেতু দিয়ে নদী পার হতে পারব কি না এখন স্বপ্নও দেখা ছেড়ে দিয়েছি।আরেক বাসিন্দা হারুন অল রসিদ জানান,এর আগে সেতু তৈরীর জন‍্য মাপযোগ করে নিয়ে গেছে।আর পাত্তা নেই।তবে ভোটের মরসুমে ফের পাকা সেতু নির্মানের জোড়ালো দাবি জানাচ্ছে হোসেনপুরবাসি।এবিষয়ে মালতিপুর বিধানসভার কংগ্রেসের বিদায়ী বিধায়ক কে জোড় ধাক্কা দিচ্ছে শাসকদলের জনপ্রতিনিধিরা।

চাঁচল-২ নং পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ‍্যক্ষ আব্দুল হাই বলেন,হোসেনপুর বাসীর দুর্দশার কথা আমার জানা আছে।আমি ব‍্যক্তিগত ভাবে বহুবার চেষ্টা করেছি।তবে এলাকার বিধায়ক ছিলেন আলবেরুনী বাবু।তিনি এটা নিয়ে একটা জোড়ালো দাবি জানাতে পারব বিধানসভায়।তিনি তা করেননি বলে দাবি আব্দুল হাইয়ের।তবুও শাসকদল রাজ‍্যে ক্ষমতাই থাকলেও এলাকায় ওই দলের বিধায়ক নেই তাই হয়তো স্থগিত বলে অনুমান শাসকদলীয় পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ‍্যক্ষ আব্দুল হাইয়ের।এবার ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী পদে রয়েছে আব্দূর রহিম বক্সী।তিনি আশাবাদী এবার জয় নিশ্চিতরূপে রয়েছে।

জয় হলেই পাকা সেতু নির্মানের কাজের জন‍্য জোড় দিবেন তারা।এবিষয়ে মালতিপুরের কংগ্রেসের বিদায়ী বিধায়ক তথা এবারের সংযুক্ত মোর্চার মনোনীত প্রার্থী আলবেরুনী জুলকারনাইন বলেন,হোসেনপুরের পাকা সেতু নির্মান নিয়ে বারবার রাজ‍্য সভায় পেশ করেছি।কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।২০১৪ সালে ওই এলাকার কংগ্রেস নির্বাচিত জেলাপরিষদের স্বাস্থ‍্য কর্মাধ‍্যক্ষ মাঞ্জারুল ইসলামের উদ‍্যোগে মাপযোগ করে উপরে পাঠানো হয়েছিল।তারপরেও কোনো কিছু আভাস মেলেনি।আলবেরুনী বলেন,প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্র মন্ত্রী প্রিয়বাবু ওই গ্রামে একবার প্রবেশ করে আশ্বাস দিয়েছিলেন।তবে তারপর থেকেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে।প্রিয় দা বেঁচে থাকলে হয়তো পাকা সেতু হয়ে যেত।শাসকদল দশ বছর ধরে এই কাজে ব‍্যর্থতা দেখাইছে।

আলবেরুনী বলেন,আমি একজন বিরোধী দলের বিধায়ক হয়েও এলাকায় অনেক কাজ করেছি।এবার জয়ী হলে সেতু নির্মানের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে তিনি বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।মালতিপুর বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রহিম বক্সী বলেন,পাকা ব্রীজ আমরাই গড়ব।রাজ‍্যে ফের তৃতীয়বারের জন‍্য বাংলার মসনদে বসছে মমতা ব‍্যানার্জী।আমিও এই কেন্দ্র থেকে জয় হব এটা নিশ্চিত।আমি দ্রুতভাবে ব্রীজ নির্মানে উদ‍্যোগী হবে।তবে কবে হবে পাকা ব্রীজ?স্বাধীনতার ৭৩ বছরেও মেলেনি পাকা সেতু।মিলেছে ভুরিভুরি আশ্বাস।এবার গ্রাম যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবে কি?এখন সেই অপেক্ষায় গোটা হোসেনপুর বাসী।

Comment

Please enter your comment!
Please enter your name here