কেন্দ্রের নাগরিকত্ব আইন ভাঁওতাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়, আসামের কথা ভুলে যাবেন না : তৃণমূল নেতা

145

পিপিএন বাংলা, নিউজ ডেস্ক: মালদা জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যালঘু সেলের নির্দেশে গাজোল ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যালঘু সেলের ব্যবস্থাপনায় অন্নদাশংকর হলে বুধবার অনুষ্ঠিত হলো কর্মী সম্মেলন। সম্মেলনের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সাজ সাজ রব ছিল সকাল থেকেই। কর্মী সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে ব্লকের ১৫টি অঞ্চলের কর্মীদের নিয়ে জেলা ও ব্লকের বিভিন্ন নেতৃত্ব গাজোল হাজি নাকুমুদ্দিন হাইস্কুল মাঠে জড়ো হন।

সেখান থেকে এক পুরো গাজোল পরিক্রমা করে দুপুরবেলা সম্মেলনকক্ষের বাইরে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে এদিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। পতাকা উত্তোলন করেন সেলের জেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। সেলের জেলা সভাপতি মোশারফ হোসেন, ব্লক তৃণমূল সভাপতি মানিক প্রসাদ, টিএমসিপি জেলা সভাপতি প্রসূন রায়, উদ্বাস্তু সেলের জেলা সভাপতি ভজহরি রায় সহ অন্যান্যরা।

মূলত একুশের নির্বাচনকে সামনে রেখে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের খবর মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস সংখ্যালঘু সেল। একুশের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসতে চাইছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু এতকিছুর পরেও গোষ্ঠী কোন্দল যে এখনো জাঁকিয়ে বসে রয়েছে তা পরিষ্কার হয়েছে ব্লক তৃণমূল সভাপতি মানিক প্রসাদের বক্তব্যে। তিনি জানান, কিছু কিছু শাখা সংগঠন কর্মীদের দিয়ে নিজের নামের জয়ধ্বনী দেওয়া হচ্ছে। এটা বরদাস্ত করা হবে না। কারণ যদি স্লোগান দিতেই হয় তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে স্লোগান হবে।

তৃণমূল কংগ্রেসের নামে স্লোগান হবে। আগামী দিনে কোন শাখা সংগঠন যদি বাড়াবাড়ি করে তাহলে পার্টি লাইন মেনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মানিক প্রসাদ। কর্মী সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে ছাত্রনেতা প্রসূন রায় জানান, আজকে দলের যারা সুবিধাভোগী মানুষ তারা কিন্তু দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। অতীতে আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া অন্যের নামে জয়ধ্বনি দিয়েছি, তারা আজ দলে নেই। তাদের মানুষ জবাব দিয়ে দিবে।

উদ্বাস্তু সেলের জেলা সভাপতি ভজহরি রায় জানান, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যানারে কাজ করে চলেছে তাদের সংগঠন। আগামী দিনে গাজোল সহ মালদা জেলার উদ্বাস্তুরা মমতার সঙ্গে থাকবে বলেও তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে সে কথা জানান। কেন্দ্রের নাগরিকত্ব আইন ভাঁওতাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি মোশারফ হোসেন জানান, বিজেপি সরকার নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে যে সরকার চালাচছে তা মানুষকে প্রতারণা ছাড়া কিছুই দেয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন এদের সহ্য হচ্ছে না। তাই সাম্প্রদায়িকতার তাস খেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এরা সরাতে চাইছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সকলের মুখ্যমন্ত্রী। সকলের জন্য তিনি উন্নয়ন করেছেন। ইমাম-মুয়াজ্জিন সহ পুরোহিত ভাতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, লোকশিল্পীদের ভাতা, পুজো কমিটিগুলোকে ৫০ হাজার টাকা, ক্লাবগুলোকে অর্থ অনুদান করা হয়েছে। সংগঠনের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, আগামী দিনে মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের পক্ষে থাকবে। স্বাধীনতার পর বাংলার মানুষ এই প্রথম একজন অসাম্প্রদায়িক মুখ্যমন্ত্রী পেয়েছে। বিজেপির কাছে কোন এজেন্ডা নেই। তাই তারা হিন্দু মুসলিম লড়াই করে ভোট চাইছে। এই সাম্প্রদায়িক বিজেপি সহ মিমকেও আক্রমণ করেন তিনি।

Comment

Please enter your comment!
Please enter your name here