প্রশ্নের মুখে চাঁচল মহকুমার স্বাস্থ্য পরিষেবা! “চিকিৎসা হচ্ছে না, বাড়িতে গিয়েই মরা ভালো” বলছেন রোগীরা

149

সফিকুল আলম, পিপিএন বাংলা, চাঁচল: সরকারের কৃপায় আছে ঝাঁ-চকচকে বিল্ডিং, উন্নত পরিকাঠামো, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। কিন্তু সব থেকেও কিছুই নেই।কিছু সংখ্যক হাসপাতালের কর্মচারী এবং ডাক্তারদের চরম অবহেলায় ছেড়ে প্রায় ভেঙে পড়েছে হাসপাতালের পরিষেবা। পরিস্থিতি বলছে অবস্থা এমনই যে তিন দিন ধরে ভর্তি রয়েছেন এক মুহূর্তের জন্য দেখা মেলেনি কোনও চিকিৎসকের এমনকি ধারে আসেননি কোনো সরকারি নার্স।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো দীর্ঘদিন ধরে ভর্তি আছেন হাসপাতালে কিন্তু রেজিস্টারে তাদের কোনো অস্তিত্বই নেই। বিনা চিকিৎসায় প্রায় মৃত্যুমুখে বেশ কয়েকজন মুমূর্ষু রোগী। প্রতীক্ষা এই বুঝি ডাক্তারবাবু দেখা দিলেন।মনে হতে পারে মালদা জেলার প্রত্যন্ত কোন গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিত্র। অবাক করা বিষয় হলো এটি মালদার চাঁচোল মহকুমা হাসপাতালের বাস্তব চিত্র। ঘটনাটি সামনে আসে রবিবার চাঁচল এর কনুয়াতে এক বাইক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে। দুর্ঘটনায় জখম হয়ে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এলাকার বাসিন্দা আব্দুল।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে একটি এক্সরে করে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন ।আত্মীয় রোগীরা কিছুক্ষণের মধ্যেই এক্সরে করে নিয়ে আসেন। কিন্তু এক্সরে রিপোর্ট দেখতে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক আসেননি বলে অভিযোগ। রোগীর পরিবারের তরফ থেকে অভিযোগ জানানো হয়। আর তার জেরেই নড়েচড়ে বসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে সুপার আক্তার হোসেন বলেন, হাসপাতালের এক চিকিৎসকের কোভিড পজিটিভ হয়েছে সেই কারণে এই পরিষেবা কিছুটা বিঘ্নিত।

তবে যদি সত্যিই এমন ঘটনা হয়ে থাকে তা দুর্ভাগ্যজনক।ঘটনা তদন্ত করে দেখছি।অন্যদিকে হরিশ্চন্দ্রপুরের তালসুর এলাকার এজাজুল হক কিছুদিন আগে প্রস্রাবের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন টানা তিনদিন ধরে তার কোনো চিকিৎসা হয়নি এমনকি তিনি হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও কোন ডাক্তারের দেখা মিলেনি বলে অভিযোগে করেন ইজাজুল এর ছেলে সারিফুল। হাসপাতালে থাকা এক রোগীর মা মালেকা বিবি বলেন, তার ছেলে তারিকুল ইসলাম এর রক্ত ক্ষরণ জনিত সমস্যার কারণে ভর্তি হন সোমবার। কিন্তু তারপর থেকে কোন ডাক্তার বাবুর, এমনকি সরকারি আয়া্য ও দেখা মেলেনি ।

সারারাত ছেলে যন্ত্রণায় ছটফট করছে। অনেক কাকুতি মিনতি করার পর ভোরবেলা একজন চিকিৎসক একটা ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে চলে গেছেন। এই প্রসঙ্গে চাচোল-১ ব্লক এর কংগ্রেস সভাপতি আনোয়ারুল হক বলেন, “চাঁচলে সুদৃশ্য ভবন রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকদের দেখাই মেলে না এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের ছিলো সম্প্রতি সেই কঙ্কালসার চেহারাটা সামনে এসে পড়েছে। মহাকুমা হাসপাতালে যদি এমন অবস্থা হয় তাহলে গ্রামীণ হাসপাতাল এর অবস্থা যে কি করুন তা বোঝাই যাচ্ছে।” বিজেপি জেলা সম্পাদক দীপঙ্কর রাম বলেন, “বর্তমান সরকারের আমলে যা হচ্ছে সবই চমক! আর এটা প্রমাণিত হলো

চাঁচল মহকুমা হাসপাতালে করুণ দৃশ্য টির মাধ্যমে। আমরা বারবার স্বাস্থ্যপরিসেবা উন্নতিকরণের জন্য সোচ্চার হয়েছে কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাতে কর্ণপাত করতে নারাজ রাজ্যের জনগণের প্রতি বিন্দুমাত্র চিন্তা নেই এই সরকারের।” অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের চাঁচল-১ ব্লকের সভাপতি সুমিত সরকার সমগ্র পরিস্থিতি শিকার করে নিয়ে বলেন, “করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত এক করে লড়াই করছেন সেই কারণে হয়তো পরিষেবায় কিছুটা ঘাটতি দেখা দিতে পারে তবে এমন গাফিলতি কখনোই কাম্য নয়।”

Comment

Please enter your comment!
Please enter your name here