গণ-সামরিকীকরণ: বিতর্ক ও বিতন্ডা (৫৭), অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম

অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম
অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম

অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম, পিপিএন বাংলা: পৃথিবীর দেশে দেশে জঙ্গিবাদী, যুদ্ধবাজ ও ফ্যাসিবাদী শক্তি বৃহত্তর পরিসরে গৃহযুদ্ধ ও বিশ্বযুদ্ধ শুরু করার পাঁয়তারা করে চলেছে। এরা ভূপৃষ্ঠে শান্তি ও সম্প্রীতির শত্রু। সমৃদ্ধি ও প্রগতির বিরোধী।

এই চিহ্নিত মানবতার শত্রুরা স্বকল্পিত এক জগতে বাস করে। কাল্পনিক এক স্বপ্ন তাদের প্রেরণা। তাদের নির্দিষ্ট কাল্পনিক মানদন্ড আছে। সেই মানদন্ডে বিচার করে বলতে পারে কে স্বর্গে যাবে আর কে নরকে যাবে। তাদের কাল্পনিক সুখী সমাজ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র আছে। যেখানে তারা মহারাজ ও অবশিষ্টরা তাদের দাসানুদাস।

এই মানবতার শত্রুরা এখন এক ভয়ানক মহাযুদ্ধ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গণ-সামরিকীকরণ চলছে দেশে দেশে। যুদ্ধবাজ ইজরায়েল ও উত্তর কোরিয়া বহু দিন ধরে এ নীতি অনুসরণ করে চলেছে। ভারতবর্ষে বর্ণ হিন্দু আর এস এস ও তার সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে জোর কদমে চলছে মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের মহাপরিকল্পনা।

ইতিমধ্যে লক্ষ লক্ষ যুবাদের দাঙ্গা ও গৃহযুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দেশের সেনাবাহিনী থাকা সত্ত্বেও তাদের অবৈধ মিলিশিয়া বাহিনীর নাম দিয়েছে হিন্দুসেনা, শিবসেনা, রামসেনা, হনুমানসেনা, বজরঙ্গ সেনা, দূর্গা সেনা আরো কত রূপকথার বীর বীরাঙ্গনাদের নামে সেনা বাহিনী।

দেশের বীর সেনানী ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য এই অবৈধ মিলিশিয়াদের অস্তিত্ব বিপজ্জনক ও অপমানজনক। এই সংগঠিত অবৈধ বাহিনী দলিত ও মুসলিমদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি। ইতিমধ্যে তাদের কৃতিত্ব দেশবাসী ও বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করেছে।

তারা কি চিনের বিরুদ্ধে লড়বে না পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়বে? তারা কি মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়বে না সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে লড়বে? লোকে তো বলে, তারা পুলিশকে ঢাল করে দলিত ও মুসলিমদের জীবন ও সম্পদ ধ্বংস করে। তারা দেশের শত্রু।

দেশের সকল শান্তিপ্রিয় মানুষের জোরদার আওয়াজ উঠুক – সকল অবৈধ মিলিশিয়া বাহিনী নিষিদ্ধ করতে হবে। দাঙ্গাবাজদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ঘৃণা ও প্রতিহিংসার পূজারীদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে। বিচ্ছিন্নতাবাদী ও বিভেদকামীদের গণশত্রু রূপে চিহ্নিত করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে কোনটা বড় চ্যালেঞ্জ – হরিৎ সন্ত্রাস না গেরুয়া সন্ত্রাস। ধর্মের নামে কারা বেশি বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে? নিরপেক্ষভাবে বিচার করতে হবে। বিশ্বাসযোগ্য তথ্য নিয়ে দেশ ও জনগণের শত্রু কারা তা চিহ্নিত করে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। কথিত আছে, বাঘের পিঠে আরোহণ করলে, বাঘের পেটে যাত্রা শেষ হয়।

Comment

Please enter your comment!
Please enter your name here