উৎকর্ষ শিক্ষাই সাফল্যের রাজপথ: বিতর্ক ও বিতন্ডা (৫০), অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম

অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম
অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম

অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম, পিপিএন বাংলা: দীর্ঘ মানব সভ্যতার ইতিহাসে কত জাতির উত্থান ও পতন হয়েছে। কিন্তু সুদীর্ঘ কাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সভ্যতার গতি অব্যাহত থেকেছে। প্রতিটি জাতি এই সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছে। সকলের অবদান আছে। অংশগ্রহণ আছে। ধাতব বর্ণ আবিষ্কার থেকে ডিজিটাল বর্ণে উত্তরণ সম্ভব হয়েছে দীর্ঘ কয়েক সহস্রাব্দ প্রচেষ্টার ফলে। আমরা জানি না একবিংশ শতাব্দী অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই প্রগতির চক্র কোথায় পৌঁছাবে।

ইহুদী জাতির ইতিহাস আমাদের জন্য আদর্শ দৃষ্টান্ত। তাদের হঠকারিতা তাদের ধ্বংস নিশ্চিত করে। তারা অসংখ্যা নবী ও রাসূল হত্যা করে। এমনকি ঈসাকে (আঃ) হত্যা করার অপপ্রয়াস করে। এই দূরভিসন্ধি তাদের দু’হাজার বছরের বিস্মৃতির অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করে। পৃথিবীর কোথাও তারা নিরাপদ ছিলনা। কিন্তু জ্ঞান চর্চাকে অবলম্বন করে পূনঃরুত্থানের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা তাদের সাফল্য এনে দিয়েছে। পৃথিবীর আটশো কোটি জনসংখ্যার মধ্যে মাত্র ষাট লক্ষ। অথচ মেধার জোরে তারা আজ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির নিয়ামক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চালিকা শক্তি। পৃথিবীর বৃহৎ জাতিগুলি তার সঙ্গে বন্ধুত্ব ও মিত্রতা স্থাপনের জন্য লালায়িত।

ভারত বর্ষের প্রেক্ষাপটে মুসলিমদের অবস্থান প্রায় অভিন্ন। ইহুদীরা যেভাবে খ্রীষ্টানদের বৈরিতার শিকার হয়। অনুরূপ ভারতের মুসলিম সম্প্রদায় হিন্দুদের বৈরিতার শিকার। খ্রীষ্টানরা যেমন ইহুদীদের ঘৃণা করতো। বিদ্ধেষ পোষণ করতো। অনুরূপ হিন্দুরা মুসলমানদের ঘৃণা করে। বিদ্ধেষ পোষণ করে। খ্রীষ্টান ইউরোপে মধ্যযুগে ইহুদীরা যেমন শহরের উপকণ্ঠে ঘেটোতে বসবাস করতো। অনুরূপ মুসলিমরা আজ ভারতবর্ষে শহরের উপকণ্ঠে ঘেটোতে বসবাস করে। খ্রীষ্টানরা যেমন ইহুদীদের সমূলে ধ্বংস করতে চেয়েছিলো। অনুরূপ হিন্দুদের বড় একটা অংশ মুসলমানদের বিনাশ করতে চায়।

ইহুদীরা যেমন তাদের মেধা ও উৎকর্ষতা দিয়ে খ্রীষ্টানদের সমীহ আদায় করে নিয়েছে। অনুরূপ, মুসলমানদেরও হিন্দুদের সমীহ আদায় করতে হবে মেধা ও প্রতিভা দিয়ে। দেশের সমৃদ্ধি ও প্রগতির চালিকা শক্তি রূপে আত্মপ্রকাশ করতে হবে।

স্বপ্ন নয় বাস্তবে সম্ভব। তবে তাৎক্ষণিক কোনো যাদু নেই। দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা চায়।

পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা তাদের সম্ভাবনাময়ী শক্তির নজির রেখেছে। উৎকর্ষ কৃষি থেকে উৎকর্ষ শিক্ষায় পরিবর্তীত হতে মাত্র তিন দশক সময় নিয়েছে। ইনশাআল্লাহ। আগামী দু’দশকে দেশের মানুষকে তারা প্রগতির দিশা দেখাবে।

আমাদের সন্তান আমাদের ইহকাল ও পরকাল। তাদের মানুষ করতে ব্যর্থ হলে আমাদের পরিবার ও সম্প্রদায় ধ্বংস হবে। অন্যদের চেয়ে আমরা দুশো বছর পিছিয়ে। তাই অন্যদের চেয়ে আমাদের বেশি গতিশীল হতে হবে। উৎকৃষ্ট প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে উৎকর্ষ শিক্ষা দিন। এটাই উত্তরণের উৎকৃষ্ট পথ।

Comment

Please enter your comment!
Please enter your name here