‘দিল্লি দাঙ্গা’ হিন্দুত্ববাদীদের পূর্ব পরিকল্পনার ফল! সংখ্যালঘু কমিশনের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট তাই বলছে: পপুলার ফ্রন্ট

213

পিপিএন বাংলা, নিউজ ডেস্ক: পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ওএমএ সালাম এক বিবৃতিতে বলেছেন যে দিল্লীর সংখ্যালঘু কমিশনের সত্য অনুসন্ধানের প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়েছে যে, উত্তর পূর্ব দিল্লীর সংঘর্ষ হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও সহিংসতার কারনে ঘটেছে এবং দিল্লি পুলিশ নিরীহদের জড়িয়ে দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী অপরাধীদের বাঁচাতে।

প্রমাণ সংগ্রহ ও সহিংসতার শিকারদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পরে কমিটি যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এটি প্রমাণ করে যে দিল্লী পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের দাবিগুলি মিথ্যা ছিল এবং তাদের কাজগুলি মুসলিম ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত বৈষম্যমূলক ছিল। সিএএ পাস হওয়ার পরে দিল্লিতে যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল তাতে শাহীন ভাগ এবং উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সকল স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল এবং প্রতিবাদ গুলো শান্তিপূর্ণ ছিল। দলটির অনুসন্ধানে এটাও দেখা গেছে যে, 2019 সালের ডিসেম্বর – 2020 সালের ফেব্রুয়ারীর মধ্যে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারের সময়ে, বিজেপি নেতৃবৃন্দ সিএএ বিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার জন্য খোলামেলাভাবে জনগণকে উস্কে দিয়েছে। এর পরে সঙ্ঘ সমর্থিত ডানপন্থী গোষ্ঠী এবং সমর্থকরা দিল্লিতে সিএএ বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ভয় দেখানো ও ক্ষতি করার জন্য প্রকাশ্যে প্রচেষ্টা শুরু করেছিল। এমনকি সেখানে প্রকাশ্যে জনগনের মধ্যে গুলিও চালিয়ে ছিল। তাদের আটকাতে দিল্লি পুলিশ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিল। বিজেপি নেতা মিঃ কপিল মিশ্র দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার মিঃ বেদ প্রকাশ সূর্যর উপস্থিতিতে সহিংসতার ডাক দিয়েছেন।

সহিংসতা পূর্ব পরিকল্পনা ছিল- এই সন্দেহকেও অনুসন্ধান থেকে আরও স্পষ্ট হয়েছে। স্থানীয়দের সাথে বিপুল সংখ্যক বহিরাগত জড়িত ছিল। এই রিপোর্টে 11 টি মসজিদ, পাঁচটি মাদ্রাসা, একটি মাজার এবং একটি কবরস্থানের নথি রয়েছে যা সহিংসতায় আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। কমিটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জনগণ জানিয়েছে যে তাদের সামনে হিংস্রতা ঘটেছিল, এমনকী পুলিশ আক্রান্তদের সহায়তা করতে এগিয়ে আসেনি । অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ রূঢ় আচরণ করেছে এবং তারা আক্রমণকারীদেরও উৎসাহিত করেছিল। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমনও দেখা গিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্থরা কিছু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে এগিয়ে এসেছিলেন বলেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই রিপোর্টে পপুলার ফ্রন্টসহ মুসলিম সংগঠন, নেতাকর্মী ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাদের নির্বিচার সহিংসতার যোগসূত্র স্থাপনের জন্য পুলিশের ভিত্তিহীন অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এই কমিটি।

পপুলার ফ্রন্ট কমিটির সুপারিশগুলিকে স্বাগত জানায় ও সমর্থন করে, এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে, বিশেষত বিচার বিভাগকে, ক্ষতিগ্রস্থদের ন্যায়বিচারের স্বার্থে এবং ভবিষ্যতে যাতে এই জাতীয় সহিংসতাকে রোধে করা যায় তার জন্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায়।

Comment

Please enter your comment!
Please enter your name here