তৃতীয় বারও ব্যর্থ মোদি সরকার, জাকিরের বিরুদ্ধে রেড কর্নার জারি করতে অস্বীকার করল ‘ইন্টারপোল’

পিপিএন বাংলা, নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় ইসলাম প্রচারক ডা. জাকির নায়েকের ওপর এখনও পর্যন্ত হাত দিতে পারেনি এমন ভারতীয় তদন্ত সংস্থাগুলোর কাছে এক বিপত্তি, ইন্টারপোলের কাছে আবারো নায়েকের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিশ (আরসিএন) অস্বীকার করেছে প্রমাণের অভাব ও অন্যায়ের প্রমাণ । আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা তাদের সব অফিসকে নির্দেশ দিয়েছে, নায়েকের সব তথ্য তার ফাইল থেকে মুছে ফেলতে।

গত ২২ জুলাই এক চিঠিতে ইন্টারপোল জানিয়েছে, নায়েকের কোনো ইন্টারপোল আরএনসি বা আশ্লেষ নোটিশের বিষয় নয় । গত ১ জুলাই 2019 সালের ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত তার 109th অধিবেশনে ইন্টারপোলের কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে । পরবর্তীতে ইন্টারপোলের সাধারণ সচিবালয় ইন্টারপোলের কমিশন ফর কন্ট্রোল-এর চিঠি অনুযায়ী ১৫ জুলাই, 2019-এ নায়েক সংক্রান্ত সব তথ্য মুছে দেয় ।

ইন্টারপোলের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারত সরকার যে ভাবে আন্তর্জাতিক পুলিশ থেকে ইসলামিক ধর্মপ্রচারকের বিরুদ্ধে আরএসসিএন জারি করার চেষ্টা করছে, তাতে এই বিপত্তি ঘটে । গত সপ্তাহে মহারাষ্ট্র পুলিশ আবার জানায়, আইসিস অনুপ্রাণিত তরুণদের একটি দল নায়েকের বক্তৃতায় প্রভাবিত হয়ে বিস্ফোরক ও অস্ত্র বানানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছে । তবে নায়েকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণ দিয়ে প্রমাণিত হতে হবে যেখানে মহারাষ্ট্র পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম স্কোয়াড চার্জশিট দাখিল করেছে ।

এদিকে, নায়েকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগে ইন্টারপোলের কাছে বিশ্বাসী ভারত সরকারের এটি তৃতীয় ব্যর্থ প্রচেষ্টা । প্রথম চেষ্টাতেই ফিরে গিয়েছিল 2017-এর মাঝামাঝি । তাতে বোঝা যাচ্ছে, গত বারো মাসে নয়া দিল্লিতে ইন্টারপোলের দলের সঙ্গে ভারত সরকারের একাধিক বৈঠক ও উপস্থাপনা ছিল বলে নায়েকের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে । জাকির নায়েককে উদ্দেশ করে লেখা এক চিঠিতে ইন্টারপোলের কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে, ‘ এর আগে উপাদানগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কমিশন জানতে পেরেছে, তথ্য প্রযোজ্য নিয়ম মেনে চলার মতো প্রশ্ন তুলেছে ‘ ।

বিবৃতিতে বোঝা যায়, নায়েকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও অভিযোগ অপ্রমাণিত ও অস্পষ্ট ছিল এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ইন্টারপোলের নিয়ম-কানুন ও প্রমাণ জমা দেয়ার কারণে যথাসময়ে ব্যর্থ হয়ে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে ব্যার্থ হয়েছে । এই অধিবেশনে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ভারতের এনসিবি-র মাধ্যমে ভারত সরকারের করা অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল ‘ ধর্মের ভিত্তিতে দুটি ভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা প্রচার করা এবং সম্প্রীতি রক্ষণাবেক্ষণে কাজ করা পূর্ববিচার, বেআইনি সমিতির সদস্য ইত্যাদি ‘ । মাহা-র মাধ্যমে ভারত সরকার জাকির নায়েক ও তাঁর সংস্থা ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনকে (আইআরএফ) 2016 নভেম্বর নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল । এই নিষেধাজ্ঞার পর আইআরএফের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, এবং সকল কর্মচারীরা তাদের দায়িত্ব থেকে মুক্তি দেয় । 2016 সালে নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে ভারত সরকার নায়েকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও অর্থ পাচারের অভিযোগের মধ্যে সরিয়ে নিয়েছে । দু ‘ টো অভিযোগই অবশ্য কোনও আদালতে বিদ্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে আইন ।

Comment

Please enter your comment!
Please enter your name here