কৃষকের আত্মহত্যা: বুধু আলী

সত্যি কথা বলতে কৃষকরাই জাতির মেরুদন্ড এবং প্রকৃত বন্ধু। একটি দেশ এবং কি একটি সমাজ কৃষকের উপর নির্ভরশীল। কৃষকের পরিষেবা ব্যতীত একটি দেশ কখনো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে না। কৃষকের উপর দেশবাসী নির্ভরশীল এবং কি তারাই খাদ্যের যোগানদার। তারা মাটি কর্ষণ করে ধান, পাট ,গম, ভুট্টা প্রভৃতি চাষ করে। তারা সবজি উৎপাদন করে। তার বিনিময়ে তারা কঠোর পরিশ্রম করে।

কৃষিকার্য তাদের জীবনযাপন এবং এই কৃষিকার্য উত্তরাধিকারসূত্রে চলে আসছে। তাদের পরিচয় হচ্ছে কৃষি কাজ করা। কৃষিকার্য তাদের জান-প্রাণ। কৃষিকার্য ছাড়া তারা অন্য কিছু ভাবতে পারে না। তাই কৃষিকার্য টাকে তারা প্রথা হিসেবে মেনে নেয়। জমি তাদের কাছে দেবী এবং সেই দেবীর পরিচর্যা করা তাদেরই কর্তব্য। গ্রাম্য ভাষায় এই কৃষিকার্য টিকে গৃহস্থী বলে। যার ব্যাখ্যা করলে আমরা পাই, গৃহ+ অস্থি ।

কৃষকরা আজকাল তার অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছে। পনেরো বছর আগে ধান, পাট ,গম ,ভুট্টার যা দাম ছিল তার মূল্য আজও তাই। কিন্তু তার পরিবর্তন হয়েছে শুধু মজুরের মূল্যে যা আগের তুলনায় পাঁচ গুণ। কৃষিজাত পণ্য ছাড়া বাকি সব কিছুর(যেমন সার বীজ , কৃষিজাত যন্ত্রপাতি প্রভৃতি )মূল্য তার পাঁচগুণ বেড়ে গিয়েছে। তারা মাঠে শস্য উৎপাদন করে; সেগুলো বিক্রি করে দৈনন্দিন জীবনযাপন করে। তারা কঠোর পরিশ্রম করে কারণ কিছু লাভের আশায়।

কিন্তু সেই আশা তাদের পূরণ হয়না। সরকার শুধু তাদের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু তারা প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়। রাজনীতি তাদেরকে নিয়ে খেলা করে; তারা শস্যের নায্যমূল্য পায় না। ফলে তারা ঋণের ফাঁদে পড়ে যায়। ঋণ পরিশোধ না করতে পারলে ভূমি রাজস্ব দপ্তর তাদের বাধ্য করায় ঋণ পরিশোধ করতে। তাদের জেল পর্যন্ত খাটতে হয়।সেখান থেকে আর তারা বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে তারা আর কোনো বাঁচার আলো দেখতে পায়না।

কিন্তু আজকাল অনেক ধনী ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় কিন্তু পরিশোধ করে না। তারা ঋণখেলাপি হয়। কিন্তু তাদের জেলে যেতে হয় না। প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে বিদেশে গিয়ে ফুর্তি করে।কৃষকরা ও তো মানুষ। তারাও তো অন্য মানুষের মতো জীবনযাপন করতে চাই। তাদেরও ইচ্ছা হয় তাদের ছেলে-মেয়েদেরকে উচ্চ শিক্ষিত করে তুলতে ।কিন্তু সেই সুযোগ সুবিধা গুলো থেকে তারা বঞ্চিত।তাদের সামর্থ্য হয় না সেই সমস্ত জিনিস গুলো ক্রয় করার যা নিত্য প্রয়োজনে প্রত্যেক পরিবারের দরকার।

ফলে বাধ্য হয়ে তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় এবং এটাই হচ্ছে সরকারের তরফ থেকে তাদের পাওয়া পুরস্কার। আর সমাজের সাধারণ মানুষ তা নিঃশব্দে মেনে নিচ্ছে। কিন্তু কেন ? কৃষকরা খাদ্যের উৎপাদক। তাদের পরিশ্রমের ফল আমরা ভোগ করি। তাই কৃষক বন্ধু দের বাঁচাতে আমাদের এগিয়ে আসা উচিত। সরকারের উচিত তাদেরকে নিয়ে ভাবা। তাদের জীবনযাপনের মান উন্নত করা।

লেখক: বুধু আলী

লেখক: বুধু আলী

1 COMMENT

Comment

Please enter your comment!
Please enter your name here