আমরা ভুলে গেছি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক ইবনে সিনাকে

আমরা ভুলে গেছি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক ইবনে সিনাকে
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক ইবনে সিনা

গাজী রহমান, পিপিএন বাংলা: তাঁর পুরো নাম আল শাইখ আল বাইম আবু আলী আল হোসেইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবন সিনা আল বুখারী।ইরানের একটি প্রদেশের নাম খোরাসানের শাসন আবদুল্লার পুত্র ছিলেন ইবনে সিনা। মায়ের নাম সিতারা বিবি। তিনি ৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে বুখারার নিকটবর্তী আফশানাতে জন্মগ্রহণ করেন । আবু আলী হোসাইন ইবনে সিনা ৯৮০ – ১০৩৭ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সেরা চিকিৎসক, গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং দার্শনিক তাকে সর্ববিদ্যায় পারদর্শী হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। তাকে একই সাথে ইরান, তুরস্ক, আফগানিস্তান এবং রাশিয়ার বিজ্ঞজনেরা জাতীয় জ্ঞানবীর হিসেবে দাবী করে। তার মূল অবদান ছিল চিকিৎসার মেডিসিন শাস্ত্রে। তিনি হলিস্টিক মেডিসিনের প্রনেতা – যেখানে একই সংঙ্গে শারীরীক, মানসিক, সামাজিক ও আত্মিক যোগসূত্রকে বিবেচনায় রেখে রুগীর চিকিৎসা করা হতো তিনিই প্রথম মানব চক্ষুর সঠিক এনাটমি করেন। যক্ষা রোগ নিয়ে তিনি অভিমত দেন যে যক্ষা একটি ছোয়াচে রোগ।

যা তার পরের পশ্চিমা চিকিৎসক গন প্রত্যাখ্যান করলেও, যা পরবর্তী সময়ে সঠিক বলে প্রমানিত হয়। তিনিই প্রথম মেনিনজাইটিসকে ব্যাখা করেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী ইবনে সিনা তার অসংখ্য অবদান রেখেছে চিকিৎসা বিজ্ঞানে।তিনি চিকিৎসা শাস্ত্রের ৫ খণ্ডের চিকিৎসা বিজ্ঞানের উপর কানুন ফিততিব নামে বিশ্বকোষ রচনা করেন। তাঁর চিকিৎসা শাস্ত্রে তার অবদান এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, প্রায় আঠারো শতকের শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ বছর ধরে তাঁর লিখিত বইগুলো অক্সফোর্ড, কেমব্রিজসহ ইউরোপের নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুরুত্বসহকারে পড়ানো হত।মধ্যযুগীয় চিকিৎসা -বিজ্ঞানের ভিত রচনায় তার অবদান অনস্বীকার্য। তাঁকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একজন জনক হিসেবে সম্মান করা হয়ে থাকে। তিনি কানুন অফ মেডিসিন গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত বই হিসাবে গণ্য করা হয়।এছাড়া আবুলকাসিস, আভেনজার, ইবনে আল নাফিস, এবং আভিরোসের মত একশ’রও বেশি বই ইবনে সিনা লিখে গিয়েছিলেন। তার “Treaties of Minerals” আরেকটি উল্লেখযোগ্য অবদান। ইবনে সীনা তাঁর বইগুলোতে বিভিন্ন ঔষধ প্রস্তুতির বর্ণনা করেছেন। যেমন:-

সালফার ঔষধ, সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড দ্রবণ, ক্যালসিয়াম পলিসালফাইড, কপার ও সোনার ভস্মীকরণ, সালফারের তলকীকরণ, সাদা সালফারের প্রস্তুতি প্রভৃতি। ইবনে সীনার চিকিৎসা শাস্ত্রে অবদানের জন্য পরিচিত হলেও তার পদার্থ বিজ্ঞানের বিষয়ে প্রবল আগ্রহ ছিলো এবং এটা আশ্চর্যজনক যে, খুব কম সংখ্যক লোকই জানে ইবনে সীনা জড়তা সম্পর্কে যে ধারণা দিয়েছিলেন তা নিউটেনের জড়তার ধারণা থেকে কম নয়। ইবনে সীনা তার বই “আল-কিতাব আল নাজাতে” লিখেছিলেন, “কেউ নিজে নিজে নড়াচড়া বা নিজে নিজে স্থির হতে পারেনা” যা জড়তার মূলনীতির একটি পরিষ্কার ব্যাখ্যা। তিনি আরো লিখেছিলেন যে, বলকে কেবলমাত্র তার ফলাফল দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়। এই উক্তিরই ব্যাখ্যা হলো নিউটনের F=ma যা নিউটনের গতির সূত্র নামে পরিচিত। এটা জানা যায় যে, কোন বস্তুর ভর এর জড়তার পরিমাপক এবং বল এর সাপেক্ষ ছাড়া বস্তুর ভর অর্থহীন। এই বলই যার উপর কাজ করে তাতে ত্বরণ সৃষ্টি করে। সুতরাং কোন বস্তুর ভর কেবলমাত্র তার উপর প্রযুক্ত বলের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়।সর্বোপরি যদি ইবনে সীনার বক্তব্যগুলো এক সাথে দেখা যায় তাহলে বুঝা যায় যে তিনিই ছিলেন গতিসূত্রের ধারণাদাতা যা পরবর্তীতে নিউটনের গতিসূত্রের স্বীকার্যনামে পরিচিতি লাভ করে।জীবদ্দশাতেই একজন সফল চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।দিনের পর দিন গবেষণার কাজে তিনি ব্যয় করেছেন। এর ফলে তার শরীর দুর্বল হয়ে পড়লে এই সময় তিনি পেটের রোগে আক্রান্ত হন। একদিন তার এক চাকর ঔষুধের সাথে আফিম মিশিয়ে দেয়। আফিমের বিষক্রিয়ায় তার জীবনী শক্তি শেষ হয়ে আসে। ১০৩৭ সালে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক ইবনে সিনা ইন্তেকাল করে। পারস্য অর্থাৎ ইরানের হামাদানে তাঁকে কবর দেয়া হয়। ইন্টারনেট জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এমনি হাজারো বিখ্যাত মানুষ গুলির অবদান জন সমক্ষে আসে না অবহেলিত রয়ে যাই। ইন্টারনেট ঘেঁটে সামান্য তুলে ধরার চেস্টা করলাম মাত্র।

Comment

Please enter your comment!
Please enter your name here