আমরা অনেকে জানিনা মানবদেহে বায়ু ও হৃদযন্ত্রে রক্ত চলাচল পদ্ধতির আবিষ্কারক ইবনুল নাফিসকে

আমরা অনেকে জানিনা মানবদেহে বায়ু ও হৃদযন্ত্রে রক্ত চলাচল পদ্ধতির আবিষ্কারক ইবনুল নাফিসকে
ইবনুল নাফিসকে

গাজী রহমান,পিপি এন বাংলা: ইবন আল নাফীস একজন বিখ্যাত আরব বিজ্ঞানী ও চিকিৎসাবিদ ছিলেন। তাঁর প্রকৃত নাম আলা আল-দিন আবু আল-হাসান আলী ইবন আবি-হাজম আল-কারশি আল-দামেস্কি। তিনি সিরিয়ার দামেস্কে ১২১৩ -খ্রীস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন এবং মিশরের কায়রোতে কর্মজীবন অতিবাহিত করেন।আজ আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেক উন্নত আবিষ্কার হয়েছে অত্যাধানিক যন্ত্রপাতি। কিন্তু প্রথম মানবদেহে বায়ু ও হৃদপিন্ডে রক্ত সঞ্চালনের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া আবিস্কারের জন্য বিখ্যাত ছিলেন ইবনুন নাফিস। ইবনুন নাফিস মানবদেহে রক্তসঞ্চালন পদ্ধতি, ফুসফুসের সথিক গঠন পদ্ধতি, শ্বাসনালী, হৃদপিন্ড, শরীরে শিরা উপশিরায় বায়ু ও রক্তের প্রবাহ ইত্যাদি সম্পর্কে বিশ্বের জ্ঞানভান্ডারকে অবহিত করেন। শ্বাসনালির অভ্যন্তরীণ অবস্থা কি? মানবদেহে বায়ু ও রক্তপ্রবাহের মধ্যে ক্রিয়া-প্রক্রিয়ার ব্যাপারটা কি? ফুসফুসের নির্মাণ কৌশল কে সভ্যজগতকে সর্বপ্রথম অবগত করিয়েছিলেন?

রক্ত চলাচল সম্বন্ধে তৎকালীন প্রচলিত গ্যালেনের মতবাদকে ভুল প্রমাণিত করে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ১৩০০ শতাব্দীতে বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন কে? এসব জিজ্ঞাসার জবাবে যে মুসলিম মনীষীর নাম উচ্চারিত হবে তিনি হচ্ছেন ইবনুন নাফিস। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেছেন যে- শিরার রক্ত এর দৃশ্য বা অদৃশ্য ছিদ্র দিয়ে ডান দিক থেকে বাম দিকের হৃৎকোষ্টে চলাচল করে না বরং শিরার রক্ত সব সময়ই ধমনী শিরার ভেতর দিয়ে ফুসফুসে গিয়ে পৌঁছায়; সেখানে বাতাসের সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে শিরার ধমনীর মধ্য দিয়ে বাম দিকের হৃৎকোষ্টে যায় এবং সেখানে এ জীবন তেজ গঠন করে।তিনি প্রমাণ করেন যে হৃৎপিন্ডে মাত্র দুটি প্রকোষ্ট রয়েছে।

আল-শামিল ফি আল-তিব্ব নামের ৩০০ খণ্ডের এক বিশাল বই লিখেছিলেন তিনি। এই বইয়ের পাণ্ডুলিপি বর্তমানে দামেস্কে সংরক্ষিত আছে। তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত বইগুলো হল- মুয়াজ আক-কানুন, আল-মুখতার ফি আল-আঘধিয়া।১২৩৬ সালে নাফিস মিসর গমন করেন। সেখানে আল-নাসরি নামক হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা করতেন। পরবর্তীতে আল-মুনসুরী হাসপাতালে তিনি প্রধান চিকিৎসক এবং সুলতানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ পান। মুসলিম এই মহামনীষী ১২৮৮ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ডিসেম্বর ইন্তিকাল করেন।তিনি তাঁর বাড়ি, লাইব্রেরি, হাসপাতাল সব আল- মনসুরী হাসপাতালকে দান করে যান।

বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী ইবনুন নাফিসের মতবাদট সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত বলে গৃহীত হলেও তাঁকে পাশ্চাত্য চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিজ্ঞান জগতে স্বীকৃতি দেয়নি। তাঁর এই যুগান্তকরী আবিস্কার ৭০০ বছরের জন্য হারিয়ে গিয়েছিল। মানুষ ভুলে গিয়েছিল তাঁর এই অবদানের কথা। অবশেষে ১৯২৪ সালে হঠাৎ করেই বার্লিনের একটি লাইব্রেরীতে তাঁর লেখা একটি পাণ্ডুলিপি (সিয়ারাহ তাসরিহ আল-কুনুন) পাওয়া যায় এবং বিশ্ববাসী আবিষ্কারটি জানতে পারে।

ইন্টারনেট জুড়ে এমনি মহাব্যাক্তিত্বদের অবদান ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, হয়ত সব সময় জন সমক্ষে আসে না অবহেলিত রয়ে যাই। ইন্টারনেট ঘেঁটে সামান্য তুলে ধরার চেস্টা করলাম মাত্র।

Comment

Please enter your comment!
Please enter your name here