গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে এবং সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ বন্ধ করতে বাম কংগ্রেসের যৌথ সমাবেশ

45

আব্দুল কাদির, পিপিএন বাংলা, চাঁচোল: রাজ্যে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার দাবিতে এবং সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ বন্ধ করতে বাম কংগ্রেসের যৌথ সমাবেশ হরিশ্চন্দ্রপুর সিপিআইএম পার্টি অফিসে।  এই সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় মালদা জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা হরিশ্চন্দ্রপুর এর বিধায়ক মোস্তাক আলম বলেন – “সব চেয়ে উঁচু অট্টালিকার উপর থেকে যেদিকে তাকাবেন দেখতে পাবেন বাম-কংগ্রেসের ঝান্ডা,  তেরঙ্গা ঝান্ডা একসাথে মিছিল করে জবাব চাইছে। পরিবর্তনের পরিবর্তন চাইছে সকলে। বিজেপি-তৃণমূল দুটো আলাদা দল হতে পারে কিন্তু তাদের একটাই  মুখ। তার নাম হলো আরএসএস ।বাম কংগ্রেস যদি যৌথভাবে লড়াই না করে আর রাজ্যে যদি বিজেপি রাজ্য চলে আসে, তাহলে বিজেপি শাসিত রাজ্য গুলিতে বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, গুজরাট যেভাবে অরাজকতা চলছে, লুট-মার, হত্যা, ধর্ষণ, প্রশাসনের অত্যাচার আর কিছুই বাদ থাকবে না পশ্চিমবঙ্গে।”

তিনি আরও বলেন -” তৃণমূলের মত নোংরা রাজনীতি বাম-কংগ্রেস কখনো করেনি যে রাস্তায় চললে ধরে ধরে মানুষকে মারবে, থানা পুলিশ তৃণমূলের কথা মত চলছে। এককথায় কাটমানির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে তৃণমূলের সরকার। রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাবে শ্রমিকরা ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে জীবন হারাচ্ছে। প্রদেশ কংগ্রেস ঘোষণা করেছে পরিযায়ী শ্রমিক দের তালিকা দিতে হবে সরকারকে এর জন্য 16 সেপ্টেম্বর রাজ্যের প্রতিটা ব্লকে ডেপুটেশন দিবে কংগ্রেসে। বিধায়ক মোস্তাক আলম পরিযায়ী শ্রমিক দের তালিকা জন্য মালদা ডিএম এর কাছে আরটিআই করেছেন। অন্যান্য রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে আমাদের রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকরা সেইসব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের অধিকার পাইয়ে দেওয়ার জন্য আমরা আইনি লড়াই লড়বো।”

সিপিআইএম-এর জেলা কমিটির সদস্য আরজাউল হক বলেন –  তৃণমূল কংগ্রেসের চুরি কাটমানির লুটপাটের জন্য বিখ্যাত, প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরিকল্পিত ভাবেই  এমন ভাবে লকডাউন ঘোষণা করছেন। তাঁর আসল পরিকল্পনা ছিলো লকডাউনের নামে শ্রমজীবীদের বিপাকে ফেলে দেওয়া। অভুক্ত হয়ে শ্রমিকরা এখন  সস্তায় শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এটাই নরেন্দ্র মোদীর পরিকল্পনা ছিলো। তিনি এক এক বারে এক একটি জিগির তুলে ভোট বৈতরণী পার হয়েছেন। এখন রেল, খনি থেকে শুরু করে দেশের সব সম্পদ বেচতে ফের যুদ্ধ জিগির তুলেছেন। আর এই দেশ বিক্রি ঠেকাতে মমতা ব্যানার্জির কোনো ভূমিকা নেই। 

সভাতে উপস্থিত ছিলেন মালদা জেলা কংগ্রেসের সভাপতি তথা বিধায়ক মোস্তাক আলম, বামফ্রন্টের  জেলা কমিটির সদস্য আরজাউল হক, আবুল কাশেম, বিমানবিহারী বসাক, আমিরুল ইসলাম
প্রমুখ।

Comment

Please enter your comment!
Please enter your name here