মারের ভিডিওটি কি ফেক ছিল? খুন নয়, হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে তাবরেজের আদালতকে জানাল পুলিশ

পিপিএন বাংলা, নিউজ ডেস্ক: গণপিটুনি নিয়ে গোটা বিশ্বে মুখ পুড়ছে দেশের। আতঙ্কে রয়েছে দলিত মুসলিমরা । তার কারণ একের পরে এক লিঞ্চিং হয়ে চলেছে দেশে। পেহলু খান, আখলাক, আফরাজুল, আলিমুদ্দিন আনসারী, সোহেল সিং ঠাকুর, জুনায়েদ, সানাউল হক, কবীর শেখ, তাবরেজ সহ আরো অনেক লম্বা কে হেরেছে নির্যাতিতদের।

এ বছরের ১৭ জুন চোর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ইলেকট্রিক পোল এর সঙ্গে বেঁধে পেটানো হয় তবরেজকে। তাঁকে দিয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ এবং ‘জয় হনুমান’ স্লোগান বলানোর অভিযোগও প্রকাশ্যে আসে। 18 ঘণ্টা ধরে নির্মম প্রহারের কারণে ২২ জুন তাঁর মৃত্যু হয়। তদন্তের চার্জশিটে পুলিশ কোনও খুনের মামলা দায়ের করেনি, যা নিয়ে বিস্মিত হয়েছেন অনেকেই। মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্‌রোগের উল্লেখ রয়েছে পুলিশের খাতায়।

নিরপেক্ষ মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তাবরেজ মারা হয়নি তাহলে কি ফিল্ম শুটিং হচ্ছিল ঐখানে? তবে মারের ভাইরাল ভিডিওটি কি মিথ্যা? পুলিশ কি উদ্দেশ্যে দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। পুলিশের উপর কি কোন রাজনৈতিক দলের চাপ রয়েছে দোষীদের বাঁচানোর জন্য।

এই চার্জশিটকে চ্যালেঞ্জ করে তবরেজের পক্ষের আইনজীবী আলতাফ হুসেন আদালতে একটি প্রতিবাদ আবেদন (পিটিশন) দাখিল করেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের চার্জশিটে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৯, ৩৪১, ৩৪২, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৪ এবং ২১৫এ ধারায় মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে দাঙ্গা, বেআইনি জমায়েত, অন্যায়ভাবে আটকে রাখা, ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার মতো অপরাধ তালিকাভুক্ত হয়েছে। কিন্তু নেই খুনের উল্লেখ! তবরেজের পক্ষের আইনজীবী আলতাফ হুসেন বলছেন, ‘আমরা শুনলাম মৃত্যুর কারণ হিসেবে আচমকা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ওর মাথায় বড় ক্ষতচিহ্ন ছিল। মারের চেটে খুলি ফেটে গিয়েছিল তবরেজের। পুলিশ কী করে বলতে পারে মৃত্যুর কারণ শুধুমাত্র হৃদ্‌রোগ?’

এই মামলার তদন্তকারী অফিসার আর নারায়ণ অবশ্য বলছেন, তাঁরা একজন নয়, বরং দু’জন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই এই সিদ্ধান্তে এসেছেন। সেরাইকেলা-খারওয়ানের ডেপুটি আনজানেউল্লু ডডে’র নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিটি বসানো হয়েছিল তবরেজের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে। ডডে জানিয়েছিলেন, পুলিশ দেরি করে ঘটনাস্থলে পৌঁছনোয় মৃতের খুলির পরীক্ষা সঠিকভাবে করতে পারেননি চিকিৎসকরা।

আর নারায়ণ অবশ্য বলছেন, ‘আমরা ওকে সেরাইকেলার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেছিলাম। তখন পরিস্থিতি দেখে মনে হয়নি ও আচমকা মারা যাবে। হ্যাঁ, ওর সিটি স্ক্যান করা হয়নি, কিন্তু এটা তো দিল্লি নয়, যে সবরকম সুযোগ সুবিধা থাকবে। এখন, মৃত্যুর কারণ হৃদ্‌রোগ হওয়ায় আমরা খুনের মামলা দায়ের করতে পারি না।’ আইনজীবী আলতাফ অবশ্য বলছেন, দোষীদের রক্ষা করতেই পুলিশ এমন চার্জশিট পেশ করেছে

Comment

Please enter your comment!
Please enter your name here