পাক-ভারত সীমান্তে কর্তব্যরত সেনা জওয়ান মুজিবুরকে সস্ত্রীক বিদেশি ঘোষণা

পিপিএন বাংলা,নিউজ ডেস্ক : প্রাক্তন সেনা আধিকারিক সানা উল্লাহর পর এবার আরেক বিএসএফ এর আধিকারিককে সাজানো হলো বিদেশী। ভারত-পাক সীমান্তের পাঞ্জাবে কর্মরত গোলাঘাট জেলার মেরাপানীর বিএসএফ আধিকারিক মুজিবুর রাহমানকে যোরহাট বিদেশী ন্যায়াধীকরণের এক চাঞ্চল্যকর রায়ে এক তরফা ভাবে বিদেশী ঘোষণা কর হলো।

সঙ্গে মুজিবুরের স্ত্রীকেও চিহ্নিত করা হলো বিদেশী হিসেবে। অথচ মুজিবুরের বাবা মা সহ অন্যান্য ভাইবোন সবাই ভারতীয়৷ এনআরসি’র সম্পুর্ণ তালিকা প্রকাশের প্রাকমুহূর্তে একজন ভারতীয় সেনাকে এভাবে একতরফা বিদেশী রায়দানের খবর রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মুজিবুর রাহমানের আইনজীবির অভিযোগ, ঠিকানার বিভ্রান্তির ফলে ভুল ভাবে বিদেশী ঘোষণা করা হয়েছে মুজিবুরকে। ‘এক পক্ষীয়ভাবে বিদেশী ঘোষণা করা হলো মুজিবুর এবং তার স্ত্রীকে’ বলেন মুজিবুরের আইনজীবি। আইনজীবির আরও অভিযোগ, মুজিবুরের মতো এভাবে অনেক লোককে একতরফা ভাবে বিদেশী ঘোষণা করা হয়েছে। মুজিবুরের মামলার নোটিশ যে ঠিকানায় জারি কর হয়েছিল সেটি সম্পূর্ণ ভুল ঠিকানায় প্রেরণ করা হয়েছে। ফলে মুজিবুরের হাতে কোনো ধরনের নোটিশই পৌঁছোয়নি।

তাছাড়া ১৯০০০ হাজারেরও অধিক মামলা আদালতে ঝুলে রয়েছে বলে জানান এই আইনজীবি। নিউজ১৮ অসমকে টেলিফোন যোগে বার্তালাপে মুজিবুর রাহমান জানান, “আমি বাংলাদেশি বা পাকিস্তানি নয়। আমার বাপ-দাদার নামে যাবতীয় প্রমাণপত্র রয়েছে। এমনকি ১৯৩০ সনের জমিনের দলিল পর্যন্ত আছে। বর্ডার পুলিশ নিজের কর্তব্য গাফিলতি করছে। নোটিশ ইস্যু করা হলো কিন্তু আমি নিজেও টের পাইনি। এটা কেমন করে সম্ভব হলো? আমি কীভাবে বিদেশী ঘোষিত হলাম৷” বিএসএফ আধিকারিক মুজিবুর রাহমানের মতে, তিনি যদি আগে নোটিশ পেতেন তাহলে জল এতোদূর গড়াতো না।

অসম সরকারের কাছে বিএসএফ আধিকারিক আহবান জানান, ভিত্তিহীন তথ্যের ওপর নির্ভর করে খাঁটি ভারতীয় নাগরিকদের ওপর যাতে আর এভাবে হয়রানি করা না হয়। ‘আমার সাথে যা ঘটেছে আর কারো সাথে যেন এসব না হয়।’, বলেন মুজিবুর৷

Comment

Please enter your comment!
Please enter your name here