আবাধে মাটির তলা থেকে উঠছে জল, নজর দিক প্রশাসন: পাঠকের কলমে

পাঠকের কলমে, পিপিএন বাংলা: অবাধে গভীর নলকূপ বসিয়ে তোলা হচ্ছে মাটির তলার জল। গ্রাউন্ড ওয়াটার যতটা কমছে ততটা রিচার্জ হচ্ছে না। গরমের মরশুম শুরু হতেই পানীয় জলের সমস্যা দেখা দিয়েছে রাজ্য জুড়ে। বিশেষ করে দক্ষিনবঙ্গের জেলা বীরভূমের পানীয় জলের সমস্যা দীর্ঘদিনের, এর মধ্যে ময়ূরেশ্বর -II ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠেছে গভীর নলকূপ।

এই জল সঙ্কটের মধ্যে সাবমারসিবল পাম্প দিয়ে দেদার ভূগর্ভস্থ জল তোলা হচ্ছে, অপচয় হচ্ছে ভূগর্ভস্থ জলের। অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ জলের ভাঁড়ারে টান পড়েছে৷

বর্তমান অপরিকল্পিত ভাবে গভীর নলকূপের মাধ্যমে কৃষিকাজের ফলে মাটির নীচের জল কমে আসছে৷ বিশেষত ধান চাষের ক্ষেত্রে প্রচুর জল লাগে৷ এক কেজি ধান উৎপাদন করতে প্রয়োজন হয় ১৪০০-১৮০০ লিটার জলের৷ বোরো ধান চাষের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি জল লাগে৷

ভালো ফলনের লক্ষ্যে অপরিকল্পিত ভাবে দেদার ভূগর্ভস্থ জল পাম্পের সাহায্যে তুলে ব্যবহার করা হচ্ছে, কোন বাধা ছাড়াই।

অপরিকল্পিত এই সকল গভীর নলকূপ বসানোর অনুমোদন দিচ্ছে কে? প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি?

আমরা জানি পৃথিবীর তিন ভাগ জল, এক ভাগ স্থল। এর মানেই কি পৃথিবীতে পানীয় জলের অভাব নেই? বরং সত্যি টা উল্টো, সারা পৃথিবী জুড়ে আজ নিরাপদ পানীয় জলের হাহাকার।

দুনিয়া জুড়ে ক্রমশ প্রকট হচ্ছে জল সংকট। বিশেষজ্ঞদের মতে কয়েক বছরের মধ্যে চরম আকার ধারণ করতে পারে জল সংকট। ফুরিয়ে আসছে ভূগর্ভস্থ জল,

পানীয় জলের মানের বিচারে ১২২টি দেশের মধ্যে ভারত ১২০তম স্থানে রয়েছে । ৭৫ শতাংশ পরিবারের বাড়িতে পানীয় জলের সরবরাহ নেই ‘ ওয়াটারএইডস বিনিথ দ্য সারফেস : দ্য স্টেট অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস ওয়াটার’ ২০১৯ রিপাের্টে বিশ্ব জল দিবসে প্রকাশিত হয়েছে ভারতের প্রায় ৬০ কোটি মানুষ জলকষ্টের মধ্যে রয়েছে, নিরাপদ জলের অভাবে প্রতি বছর প্রায় ২ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞানীদের অনুমান বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জলের অভাব 2050 সালের মধ্যে এক ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। আর এই জল পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠবে। যেহেতু ভূগর্ভস্থ জল ভাণ্ডারে বৃষ্টির জল প্রবেশ করে ধীরে ধীরে তাই স্বাভাবিকভাবেই ভূগর্ভস্থ
জলস্তর বাড়তে অনেক সময় লাগে।

কিন্তু ভূগর্ভস্থ জল ভাণ্ডারে বৃষ্টির জল যে পরিমাণে প্রবেশ করছে সেই হার এবং জল উত্তোলনের হারের একটা বিরাট অমিল থাকার ফলে ভূগর্ভস্থ জলের পরিমাণ বর্তমানে যথেষ্ট ভাবে কমতে শুরু করেছে। আগামী দিনে পানীয় জল নিয়েও সঙ্কট হতে পারে চরম পর্যায়ে,জল ধরো জল ভরো না করলে সামনে বিপদ।

মমতাজ খাতুন, ময়ূরেশ্বর-২, বীরভূম

Comment

Please enter your comment!
Please enter your name here